1. mustafejrumon2020@gmail.com : এম আর : এম আর
  2. fakhrulislam1929@gmail.com : fakhrul islam : fakhrul islam
  3. janapadnews24@gmail.com : janapadnews :
  4. ujjalhafej7@gmail.com : ইউ এইচ : ইউ এইচ
বহিরাগত দালালদের দখলে উত্তরা ভূমি অফিস - জনপদ নিউজ | Janapad News
শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১৪ অপরাহ্ন

বহিরাগত দালালদের দখলে উত্তরা ভূমি অফিস

মোস্তাফিজ রুমন:
  • আপডেট : রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ২০ Time View

সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও চেয়ার-টেবিল পেতে গ্রাহকদের সেবা দেয়ার নামে দৈনিক হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। রাজধানীর উত্তরার (দলিপাড়া) ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলের ভূমি সহকারীর কার্যালয় চলছে বহিরাগত দালালদের ইশারায়। আর এর সবই হচ্ছে ভূমি কর্মকর্তাদের নাকের ডগায়।

সম্প্রতি অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে গিয়ে দেখা যায় কর্মকর্তাদের মতো চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করছে দালালরা। গুরুত্বপূর্ণ নথি, সরকারি আসবাবপত্র সবই থাকে তাদের দখলে।

পরে ভূমি অফিসে বহিরাগত দালালদের কার্যক্রম ধারণ করা হয় গোপন ক্যামেরায়। পিছু নেয়া হয় উত্তরা ভূমি অফিসে নামজারি করতে আসা এক ভুক্তভোগীর। দেখা যায়, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সায়মা হকের পাশের টেবিলে বসে দিব্যি দাফতরিক কাজ করছেন বাবুসহ কয়েকজন দালাল। এই দালালরা প্রকাশ্যেই গ্রাহকের কাছ থেকে সেবার নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজগুলো সম্পাদন করেন বহিরাগত দালালরা। শুধু স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দালালদের ইশারা ছাড়া স্বাক্ষর হয়না কোন ফাইলে কর্মকর্তার।

এদিকে, সেবা গ্রহীতারা বলছেন, কোন প্রকার সরকারি নিয়োগ ছাড়ায় সরকারের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরে কি করে চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করছে দালালরা? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী জানান, খাজনা খারিজ করতে ১২ হাজার টাকা চেয়েছেন দালাল বাবু। শুধু তাই নয় কাজ শেষে মিষ্টি খেতে আরো অতিরিক্ত দিতে হবে দুই হাজার টাকা। বাবু ছাড়া নাকি এই কাজ কেউ করাতেও পারবেন না।

অপর এক ভুক্তভোগী ফারহানা ইয়াসমিন মিতু নামের একজন সরকারী কর্মকর্তা তার নিজের পরিচয় দেয়ার পরও তার ফ্লাটের নামজারি করাতে গুনতে হয়েছে ঘুষের টাকা। তিনি জনপদ নিউজকে জানান, তার বয়স্ক বাবা এসেছিলেন নামজারি করতে উত্তরা ভূমি অফিসে। নামজারি বাবদ ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে বলে জানান দালাল বাবু। পরে তার বাবা বাড়ি চলে যায়। পরের দিন (মিতু) নিজেই কাগজপত্র নিয়ে নাম খারিজ করতে এসি ল্যান্ড ক্যান্টনমেন্ট এর অফিসে গিয়ে নাম খারিজ এর কাগজ পত্র ঠিক করান। এসময় এসি অফিসের কর্তব্যরত অনেকেই তাকে সহযোগিতা করলেও উত্তরা ভূমি অফিসে ঢুকতেই দালালদের খপ্পরে পড়তে হয় তাকে। নিজের পরিচয় দেয়ার পরও দালালরা কাজ বাবত মিষ্টি খাবার জন্য টাকা দাবি করে বসেন। পরে তিনি ৫ শ টাকা দিলে মিষ্টি খেতে আরো দুই হাজার টাকা দাবী করেন দালালরা।

তিনি জানান, বহিরাগত দালালরা অফিসের ভেতরে এমন ভাবে চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করছে বুঝে উঠা যায় না কে কর্মকর্তা আর কে বহিরাগত দালাল। তিনি অভিযোগ করে বলেন সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেয়ায় উল্টো উত্তরা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সায়মা হক এসিল্যান্ড অফিসে নাজিরকে ফোন করে আমার ফাইল আটকে দেয়ার চেষ্টা করেন। তখন তিনি এসি ল্যান্ড অফিসের ১০১ নাম্বার কক্ষে নাজিরের সামনে বসে ছিলেন।

সাংবাদিকরা দালাল বাবুর কাছে তার পরিচয় জানতে চাইলে সে পরিচয় দেন তিনি এখানের বহিরাগত দালাল। মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা জানতে চাইলে প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে লেনদেনের ভিডিও দেখানো হলে চুপসে যান তিনি। পড়ে নানা ভাবে ম্যানেজ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এরই মধ্যে নিজ চেয়ার থেকে সটকে পড়েন সায়মা হক ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জমির নাম খারিজ ও খাজনার জন্য দুই হাজার থেকে শুরু করে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে সেবা গ্রহীতাদের। যাদের টাকা দিয়ে পিছনে পিছনে ঘুড়ছেন তারা যে শুধুমাত্র দালাল তা জানা নেই গ্রাহকদের। জানবেনই বা কি করে তাদের প্রত্যেকটি রুমে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের মতই চেয়ার-টেবিল। খাতা কলম নিয়ে প্রচুর ব্যস্ত তারা। টাকা ছাড়া কোন সেবা মিলছেনা তাদের টেবিলে।

যেভাবে সিন্ডিকেট করে কাজ ভাগাভাগি করে দালালরা:

ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সায়মা হক, ভূমি উপ- সহকারী কর্মকর্তা কৃষ্ণা মন্ডল, অফিস সহায়ক নাজমুল হাই সনি ও চেইনম্যান উত্তম কুমার হালদার। এই চার জন সরকারি নিয়োগ প্রাপ্ত হলেও এখানে রয়েছে তাদের ব্যক্তিগত নিয়োগ দেয়া ডজনখানেক বহিরাগত দালাল।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, এই প্রতিটি রুমের জন্য রয়েছে ভিতরে বাহিরে আলাদা দালাল সিন্ডিকেট। কারো কাজ রুমের ভিতরে আর কারো কাজ বাহিরে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের ভুলভাল বুঝিয়ে কাগজ-পত্র নিজেদের দখলে নেয়া। এরপর নানা রকম কাজের নাম বলে দরকষাকষি। এই দালালদের দুই ভাগে দিতে হয় টাকা। কাগজ হাতে নেয়ার পরই গুনতে হয় অগ্রিম টাকা। এরপর কাজ শেষে। এটাই শেষ নয় চুক্তির পরও তৈরি হয় নানা জটিলতা তার জন্য দিতে হয় আলাদা টাকা।

এমন বিস্তর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্যান্টনমেন্ট জোনের (উত্তরা দলিপাড়া) সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সায়মা হককের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন এসিল্যান্ড অফিসের পারমিশন ছাড়া কোন বক্তব্য দেয়া যাবে না।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হয় ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড ) শাহরিয়ার রহমানের সাথে। তিনি প্রতিবেদককে জানান, আমি মাত্র একমাস যাবত এসেছি। আমি এখনো গুছিয়ে উঠতে পারি নাই। উত্তরা ভূমি অফিসের অভিযোগগুলো শুনলাম। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্টটি ছড়িয়ে দিন

আরো খবর . . .
All rights reserved 2020 © janapadnews  website developed by Ariyan Sakib 
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazarjanapadn121